Wednesday, 17 May 2017

সুজিত মান্না

শিল্পকাঠি

বাঁধানো দাঁতের সারি নিয়ে
একদল কমবয়সী বিছানার পাশে টুকরো টুকরো হৃদয়
                                                            ছাড়তে ব্যস্ত
সভ্যতার অসঙ্গতিতে এখান থেকেই যে সুদৃশ্য বাচ্চা জন্ম নেবে
তার আকাশ জুড়ে নাচের উৎসব লেগে থাকবে কী ?
ডোরাকাটা সোয়েটার পরে
ধীরে ধীরে একটা শিশু রাস্তার ধারে
পুরোনো চটি পরে প্রতিদিনের ডাল-আলুর
               গলায় মালা আর কপালে সিঁদুরের তিলক
                                                          পরিয়ে দেয়
আমি রাজি আছি
   এসব ছেড়ে ছুড়ে
কৃষ্ণ সেজে আঁচলের গন্ধ পরিবর্তনে মন দিতে
বাঁশির সুরে সুরে নিয়মিত জীবনকে সুন্দর করার তাগিদে
নতুন নতুন বাচ্চার জন্ম দেবে আমার এই পথ
তাই বারবার
এই রাস্তার শেষে বসে থেকে
শাড়ির শিল্পকাঠি থেকে
রোজ রোজ মনে মনে নিয়ম করে আঁচল সরাতে বসি

সুজিত মান্না

ফেরার কথাও ছিলো

শেষ ট্রেনে বাড়ি ফেরার কথা ছিলো না
ভীষণ ভাবে অনুভব করতে পারি
                   সেদিন তারারা ছুটিতে হয়তো বা উল্টোপথে...
যেদিন প্রথম বিকেলকে রাত্রির করে দেখলাম
সেদিনই প্রথম অন্ধকার ঘরে
কোনো অবিশ্বাস ছাড়াই বুঝেছিলাম 
বিষণ্ণতার বিকেল জুড়ে যে শিশু প্রথম দাঁত হারানো টের পায়
সেই হারানো অনুভূতিরও বালিকার চোখ থাকে
অন্ধকার সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে শেষ ট্রেনটাকে
                                                   চলে যেতে দেখেছি
দেখেছি বিদায় জানানো দূরপাল্লার চিলেকোঠায়
       চলে যাওয়া বাধ্য শিশুর মতো বিস্ময় মুখোমুখি
মাঝরাতে স্টেশন ছেড়েছি
ছেড়েছি অনুভবের ঠিকানায় নেশার মতো আছড়ে পড়া
                                                       রাত্রির বিছানা
ভাঙা নৌকো দেখে যেমন অনুভূতি আসে
দাড়িওয়ালা পুরুষের রাত্রিমুখ দেখলে অনুভব করি
রাত্রির রাজধানী জুড়ে
কে বলেছে প্রতিদিন পুরোনো প্রেম ফিরে আসেনা !