Showing posts with label মিক্সড কম্পার্টমেন্ট. Show all posts
Showing posts with label মিক্সড কম্পার্টমেন্ট. Show all posts

Tuesday, 1 August 2017

বিশ্বজিৎ দাস




ভাঙনকথা




১
টেবিল অসমাপ্ত
কা
ঠে
র
ভি
ত
র
ক্লোরোফিলের ডাক...

২
খুলির বোবা ইশারা
সাবানের ফেনায় ঝরে
ই
চ্ছ
মৃ
ত্যু
র
স
কা
ল
মোহমুগ্ধ বারান্দায় আলো!

৩
বৈপরীত্য থাকে না অন্ধকারে
চামড়ার ওপরে ঢেউ খেলে
ম
স্তি
ষ্ক
জ
ল
ঘোলা আর আঠালো ঘূণ
চেয়ে থাকো আক্রান্ত ঘুম

৪
স্বপ্নে মৃত্যুর মুখোমুখি
বেঁচে আছি ভরদুপুরে কেন
য
দি
ব
লি
প্রে
ম
ধ্বংসের বুকেও আনন্দ
আর ভাবনামুক্ত খুলি কয়েক সেকেন্ডের জন্য...

মৃণালিনী


তবুও তো  আছি বেঁচে


           ১
কত অভিনয় কত ছলনা
কত যে ধাক্কা কত যে হোঁচট
নীরব সংখ্যার শূন্য-
একের পিঠে বেড়েই চলেছে ক্রমশ
ক্লান্তিহীন তার পথ, চলা অন্তহীন।

একটুকরো আকাশে মাঝে যন্ত্রণার অসীম নীলাকাশে
একটি তারা চাঁদের আলোয় টিম টিম জ্বলছে
              সবকিছু আঁকড়ে তবুও তো আছি বেঁচে।

                  ২
গ্রীষ্মের দুপুরে ছাতা- সান্ত্বনা বাক্যের আড়ালে
লম্বা ছায়ার সঙ্গে কত যে পথ হেঁটেছি
       মরুচিকার উপদেশে নির্জন মরুভূমিতে।




অসাড় শরীরে  স্বপ্নের রঙ কালো হতে হতে
দেখেছি ধূসর রঙ
               তবুও তো  আছি বেঁচে ।


            ৩

শ্রাবণের বর্ষাধারায় প্রতিবেশীর মুখোশ
বর্ষাস্নাত রাগ রাগিনী সবুজ আবেশে
       প্রতিদ্বন্দ্বী পরকীয়া দাবার কোর্ট।

সমুদ্রের ঢেউ- তোলপাড় কিনারায়
লবণাক্ত বিন্দু বিন্দু ফোঁটা
দিশেহারা-
প্রতিক্রিয়ার কাঁটায় বিদ্ধ প্রিয়ের শব
কাঁধের ওপরে অনাথ শোক-
জলন্ত চিতার আগুনে ওঠে আসা ছাই...
সিঁদুরে সিঁথি সংসার  রূপক-সাঙ্কেতিক-উপমা ঘেরা
                               তবুও তো আছি বেঁচে।

         
              ৪
Top of Form
রোজের গঞ্জনায় উঠে আসা বঞ্চিত জীবনে
সন্দেহ সমালোচনার ফুসলানির নাগপাশ
খালি পেটে হাসি মুখে নিঃসঙ্গ ঘরের কোন।
কালো হরফে নীরব বন্ধু
অক্ষরের গায়ে দু’জোড়া কালো চোখের গড়িয়ে পড়া
বিন্দু বিন্দু জলের নিজস্ব শ্রাবণ নিয়ে
                             তবুও তো আছি বেঁচে।

                   ৫
কত না অবহেলা কত না অপমান
কত না প্রভোলন কত না স্বার্থের বাণ
ঘাসফুলের ভাগ্যরেখায় ফুলদানীহারা
এক কোনে মাথা উঁচু করে আছি ফুটে
কখনও পায়ের চাপে দীর্ঘশ্বাস আত্মহারা
                   তবুও তো আছি বেঁচে।

                                                          

প্রদীপ কুমার ঘোষ



▪ স্ক্র‍্যাপবুক

পেজ - ১

দেবগুপ্ত পৃথিবী। তার কেটে গোল।
ফোনিমে সরগম্। খাঁজ খোঁজে শিকারি।
তরকারিতে এঁটো নুন। সরবতে পাখির মল।
হৃষ্টপুষ্ট চুপচাপ : অখাদ্য নৈঃশব্দ্য ভোজে জিভে লাল…
টপ্-টপ্।

পেজ - ২
গোষ্ঠীগত ছক : উড়ন্ত পায়রার গা থেকে ঝরে পড়ে
ফেদারটাচ্ কোড ল্যাংগুয়েজ। বিশুদ্ধ বিশ্বাসে
গৃহীত হয় নামাবলির পাঁঠা।
নঙ্ তৎপুরুষ ঘাঁটলে সক্কাল সক্কাল : গুরু বলে সন্মান দেয়
স্যালাড টু স্লামডগ। সিদ্ধান্ত : স্লামবার।

পেজ - ৩
জারজ বংশোদগম্। ভোর ভেবে চুষছো
বিকেলতাপ লজেন্স। এভাবে ক্লিটোরিস চাটনি।
শ্বাসঠাঁপ। ক্রমাগত উষ্ণায়ন। ভার্বাল ব্লোজব।
পাঁ*ফাঁক : বিভেদচিহ্নের উদারিকরণ। সেল!সেল!সেল!

পেজ - ৪
হুরহুরে বাতাস। গায়ে লাগাও। আর
ডিভাইন সুখসাগরে বলো - বিসমিল্লাহ্‌।
ফাংগাস অ্যাটাকে কুটকুট। সত্য।
তবু শেষ সত্য বস্তিদেশের চকোলেট।

পেজ - ৫
হসন্তধর্মী জীবন। কাঁটায় কাঁটায় হাতঘড়ি।
অদরখ্ বিশ্বাস - কড়াই কড়াই পাঠশালা।
দ্বিপদী ---- মনোরেল অ্যাকসিডেন্ট।
স্যাচুরেটেড ফুল মাগ কফি। হাফবয়েল ভূগোল।


▪ ট্যারেন্টুলা'জ স্পিচ

১.

কলকবজা-হাতুড়ি আমার গান চুরি করে
পলাতক। উঁচু বাঁশের মাথায় গরিলার
আর্তনাদ। আস্তে আস্তে পরিস্ফুট হচ্ছে আমার
ভয়েস। কোনোদিক থেকে বয়ে যাচ্ছে মৌসুমি বায়ূ।

আরাম দিয়ে শুইয়ে দাও আমায়। উঠবো না আর
পুরো একবিংশ শতাব্দী। ভাঙা কাঁচ জুড়ে
আমার জন্য হোক এক মদপাত্র। আমিও তো
এভাবেই বাঁচতে চাই - সেলোটেপের ফাঁকে হুইস্কির গন্ধে।

২.

বাতপতাকা দুলিয়ে ভূমিকম্প। অড়হড়ের ডালে
ভেসে যাচ্ছে - বুক।পেট।     আঁচল: খসিয়ে দাও
বাল্মীকি হাওয়া। পত্ররন্ধ্র টেনে নিক নিকোটিন শ্বাস।
হুবহু টুকে দিক - সালোকসংশ্লেষ। কোষবিভাজন।

ম্যারিনেট করা মাছে - ডিম বাঁচে? অবয়ব?
কত হৃৎপিন্ড - খুঁড়ে আনা যায় কবর পিরামিড।
নক্সাস ভূ-বৈচিত্র‍্য ঘেঁটে স্পঞ্জ রসগোল্লা তুলতুলে -
স্প্রিংয়ের উপর : উপর-নিচ। উপর-নিচ। উপর-নিচ।

৩.

রঙ গুললে মিক্সড ফ্লেভার। চাই
গ্লুকোজ : সার। কীটনাশক। বীজ।
রুপোর থালায় কোকিলের ডিম।
খুন্তিচেটে পরিষ্কার করছি খুচরো পাপ।

চুল ঘেঁটে এলিয়েন জালক। মিথ্যা
সংসার : কাব্য। গদ্য। নাটক।
ভ্যাজাইনাল ড্রামায় ঘাম পরিষ্কার করে
উদ্ভট মেথর। বাণী ঝাড়ে : চিচিং ফাক্।

Saturday, 1 July 2017

অতনু গঙ্গোপাধ্যায়

নেভিগেশন সিরিজ – ( প্রথম পর্য্যায় )      
- ১-  
ওয়াই ফাই স্টেশনের কাছে বুড়ো বটতলা
তার বিষন্ন বিকাল জুড়ে গল্পকথায় মাঠ ফুরায়
এ শহরে
বাড়ো রুপকথা  ঃ বাড়ো চুপকথা
হা-ঘর ব্যথা, ডেনিম স্পর্ধায়
লি
লি
চুম্বন
ধুপকাঠি সন্ধ্যায়
ফেরো বিগ্রহ ঃ ফেরো কুলগুরু
ঢেউ আসে , পাশ ফেরে
কোচকানো শয্যায়
ছিপছিপে বৃস্টি, ভেজা বেলফুল
স্টেনগান জলপাই
দিন আনি দিন খাই
খেয়াতুর গল্পেরা
হাই তোল
মজ্জায় ।
২ ।
শব্দগহ্বরে বসে
ঠোঁট নড়া দেখেনি কতকাল
কথকতা
ঢেউ আসে,মুঠো ফসফরাস
মিনারেল ডাবখোল
চকমকি
ট্রলার,ট্রলার
স্কুপ উহ্য রাখে ভাবীকাল ঢেউ
স্পাইন্যাল একতারা মৃদু-মন্দ সুর
ধুয়ে মুছে
ফুরুত
ফুরুত
উড়ুক চড়াই।
৩।
যা ছিল,আড়াল হয়েছে
বায়ুভুক
যা ছিল না,উত্তাল
নিরালম্ব
জায়মান আছে কৈশিক ।

রাহুল গাঙ্গুলী

নৈর্ব্যক্তিক



(১)

ফিরে যাচ্ছি আমি।ফিরছো তুমিও
তারও বেশি কয়েকটা শব্দঋণ
কবিতা মাখামাখি
বেশ হতো।বেশ ছিলো
কালো চোখ - মৌনতায়
ফিরে গেল ক্ষমাহীন জল



(২)

ঘুম দাও।ঘুম দাও।ঘুমঘুম।ঘুম নাও
ঘোড়েল সময়কণায় বুদবুদানো বাড়ি
নেশাকারী অবশ হাত।রিমঝিম ঝিম

এপারে নাভিশাঁখ।ওপারে মুঠোখই



(৩)

বাতিলায়ানা পোস্টকার্ডে গোপন সংকেত
সংকেতে : চকিত গুহা।গুহামুখ।হইহই
ভুল করে ভুলে যাই।স্মৃতিভ্রংশ প্রেমিকের মতো
গোপনগোপনে স্মৃতি চুরি



(৪)

ভাঙা আয়নায় সুখ দাও
ভরা সুতো গা থেকে খুলে।জমি বৃষ্টির টান দাও
ভাসতেভাসতে শরীর জুড়ে।শরীর জুড়ে
জাগতীয়া সামুদ্রিক খেলা।তেজস্ক্রিয়তা উধাও
থেমে যাওয়া শিকারির মতোন



(৫)

পলিমাটি জমানো ছেঁড়াখোঁড়া শিলালিপিতে
যুধিষ্ঠিরের হাতমারা মৈথুন
বড়বাজার।মাসকাবারি।ক্লার্ক।সুদখোর।চাষি
এমনকি পাকা বেগুনের মতো
মালিক।শ্রমিক।বা ইউনিয়ন লিডার
চলো হে যুধিষ্ঠির : সকালের সাইরেনে চড়ুইভাতি

ধান ভুলে জটিল চন্দ্রমল্লিকা।বিষুব উপহারে



(৬)

যে তরুণী সুইসাইডাল নোটে অক্ষর ছেঁড়ে নি
তার জন্যই কবিতা শরীরের পাতাল
এরকম কিছু নিষ্ঠুরতায় সাবেক বেদেনী ঠোঁট

তদন্তকারীর চোখে : কৃষ্ণগর্তের বিষাক্ত নুন



(৭)

কথা ছিল : রবিনহুডের সাথে আজ পিকনিক যাবো
কুউউউ ঝিকঝিকঝিক।ঝিকমিক বারান্দা খুলে
সমস্ত দুর্ঘটনা যখোন ডায়রিঘটিত
সফেদ টুপিতে থাকা কালোকাকের পালক

মুন্ডু গেল।পেট গেল।তল কাটা তল।তারপর!!!!!


(৮)

নিজস্ব বিভ্রান্তির মাঝখানে
আত্মনদে ডুব দাও।ডুবুরি অভিনয়ের পর
রাম তেরি গঙ্গা মইলি।ও।মন্দাকিনীর স্বচ্ছতা
পোষাকি পোষাক পোষাকীয়।ঘন সিঁদুর এফোঁড়ে
মসজিদ - মন্দির - গির্জাগুরু সত্যি নয়
রাতেলু সঙ্গম ছাড়া।বকবাস্ মরুমরু ঝড়



(৯)

বয়স বাড়ছে।পালকি থেকে বাইক।যুদ্ধবিমান
মৃত ফুসফুস জোগাচ্ছে ফসফরাসি ভাতের খবর
পৃথিবী ঘটবার জন্যই।ঘটছে।ঘটনা।ভারি কথা
অটোমেশিনে সাইবার মেলানকলিকা ছিলিম
ঢেউ কাটছে।ঢেউ মরছে।ঢেউ চুষছে

যাবতীয় দরকারি হার।যৌনার্ত তারার সীমাকলম




সুকান্ত ঘোষাল

তিন বছরের ঊর্দ্ধে পুরা ভাড়া লাগিবে


(০১)
কোন যন্ত্রে সোজা হয়ে থাকি!পয়সা ফুটো করে কোমরে ঝুলিয়ে নেওয়ার চেয়েও স্বাভাবিক।যেমন চিনির লোভে চিমনির কালি জামায় লেগেছে।কেবল পকেটমার থেকে সাবধান হতে শিখিনি এখনো।

(০২)
বয়স্ক ব্যাক্তির জন্য বরাদ্দ। আমি তার পাশে
বসি। হাঁড়িতে জল থাবড়ে বাঁচিয়ে রাখি ছানা।
ছয়টি পা। ছয়টি সরু সরু পায়ের উপর দাগ লেগেছে। তেমন কোন ক্ষরণ নেই এক্সট্রা লার্জ হাত দেখালেই থামে।

(০৩)
নিজের জিনিস এবং বিজ্ঞপ্তির কাঁচাহাত কোন দিকে দুরন্ত ছাতার-বাটের ফিতে । অবশেষে পোস্টার ছাড়াই বাস থামল।একটা ক্ষুদ্র শরীর নিয়ে যাচ্ছে পরবর্তী। ফাটা দিয়ে ঝরঝরিয়ে তোমার দৃষ্টান্ত। ঠিক মাঝখানে ছটা দিয়েছো তাতিয়ে দিতে। খোলার আগে কপালে ঠেকাই।

ফারজানা মণি

আয়রন পাওয়ার 


১.
গুলাবি চুরটে পুড়ে গেছে আংটার মুখ
ছাই ছাই স্কিনটোন।ধূসর প্রভাতের আলোয় ঝলসানো শরীরটি আজ সিম্ফনি-

২.
কুয়াশায় সব ঝাপসা লাগে,মধ্যরাতের কামাসক্তির কাছে হেরে যাই - কখনো...
মুখ থুবড়ে তোমার সাত ইঞ্চি ফিতায় নিজেকে মেপে নিই... জড়িয়ে থাকা অর্গান টিস্যুতে মাতাল হতে খুব বেশি সময় ব্যয় করিনি.....

৩.
তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাস আমার এডিকশন।শহর ঘুমিয়ে গেলে আমরা মেতে উঠি নিষিদ্ধ প্রলাপের বলয়ে।ডুবে যাই,ভার্জিনিটি ভঙ্গের উৎসবে....
প্রতিটি সঙ্গমের পর
আমরা আবার ভার্জিন হয়ে যাই
পরবর্তী নষ্টের অপেক্ষায়...

৪.
শীৎকার গুলো কেবল ফোনের ওপাশ থেকেই তুমি শোন....ইচ্ছেগুলো মেঘের মতো উড়তে থাকে- আমিও চাই দুজনে মিলে তৈরী হোক
নগ্নতার অভিধান....


৫. ফ্রেঞ্চ স্টাইলে ব্যাখ্যাহীন চুমু...যেখানে জিভের স্পর্শে আমরা পবিত্র হই প্রতিদিন......

Thursday, 1 June 2017

জয়শ্রী ঘোষ

সোডিয়াম স্টিয়ারেট

১
সান বাঁধানো ঘাটে আজ ও অপেক্ষায়
ওই মানুষ টি, ধীরস্থির কেউ কেউ  
তার স্ট্যাচুর মতো দেহকে কাপুরুষ বলে থাকে
শরীরে ছাতিমের  উগ্রতা মেখে ছলাৎ ভর্তি 
কানে নিজ মনে বিরবিরিয়ে বলে বুরা মাত্ শুনো 
সাবানের সাথে সহবাস করে ফেনা সহযোগে 
টি-টোয়েন্টি খেলায় হৈচৈ পাড়ার ড্রয়িং রুম গুলি 
বিজ্ঞাপনে কান পাতলে শরীর বলে প্রেম
              সুরভিত  আন্টি সেপ্টিক ক্রিমে
সমস্ত লাভার্স পয়েন্টে হেঁটে যায় 
                      আমি নামক ক্রীতদাস  
নেশাতুর চোখে শরীর মাএই সুন্দর  
   প্রয়োজন বরোলীনের
গাছেদের ও সংসার আছে শেখর বহু দূরে

২

শক্ত বরফে একট্টা করেছিলাম ইচ্ছে গুলোকে
রাত্রি অ্যাকটা পাঁচ যাকে আমরা সকাল ভাবলে
ভুল হবেনা, বাফারিং হচ্ছে তো হচ্ছেই 
আঙুলে ঝিঁঝি তার পরেই পায়ে
চাঁদ স্পর্শ দাও

৩

জলজ্যান্ত উদাহরণ তারা রা, ফিচকেল হাসি 
ছন্দময় জীবনে ব্যস্ত, সূর্য যখন ঘুমিয়ে, ফ্রেস মুডে সেরে ন্যায় জীবনের হার্ড ওয়ার্ক গুলি 
ম্যাক্সিমাম সময়ে সিলিকন স্বপ্ন দেখায় 
নোংরা জামার স্তুপাকার

৪

তিরতির কাঁপছে কানের লতি, সকালের জলকেলি , কখনো উবু কখনো চিৎ মার্কা
মৈথুনে মৈথুনে আলগা শরীর 
                 মুক্তি  টলমলে
পায়ের ফাঁকে জটিল ডট ডট
সোডিয়াম স্টিয়ারেটে ফাটছে জল

রুমা ঢ্যাং

রুমা ঢ্যাং

অবসন্নতা 

মাস্তুলে আটকে থাকা একখণ্ড কাপড়কে কেউ জিগ্যেস করে নি 
কিসের টানে ত্রিভুজের কোণায় ঝুলিয়েছে শিথিল বাহু। 
নুনের ঝাপটায় তাকেও শিখে নিতে হয় 
মাঝ সমুদ্রে বেঁচে থাকা এবং ভাসা,
ঝড়ের বেগে মরে যাওয়াও।
উত্তাল ঢেউ ভেঙ্গে এগোনোর দায়ভার নিতে নিতে 
বাঁশের আগায় কখনই লেখা হয় না অবসন্নতা!

কুশপুতুল

মুক্তি চেয়ে যেখানেই মিছিলের তোড়জোড় হয়েছে 
একটা করে গারদ-কুশপুতুল পুড়েছে।
রণে ভঙ্গ দিয়ে ছুটেছেন বিপ্লবের জহুরি।

জন্মজয়ন্তী

যদি মিথ্যাভাষণেই হয় লিলিপুটদের জয়জয়কার
তো ঝাণ্ডা নামাও -- 
ধান্দাবাজেরও হোক একটা করে জন্মজয়ন্তী! 

রাহুল গাঙ্গুলী



জিরো গ্রাভিটির রিংটোন



১

একপেশে বিশুদ্ধতা চুইয়ে পড়লে
০-অভিকর্ষে ধ্রুবকের মান কাল্পনিক
এখন ১১-৩৯ সকাল।খবর অনুযায়ী সূচক
প্রত্যন্ত আচল থেকে ভূ-গর্ভস্থ সিদুর জাতীয়
যে পাখি যন্ত্রণায় অভিশাপ কুড়িয়েছিল
হারানো জতুগৃহের পর - ঠোটেও ধ্রুবকের মান ০


২

আপাতত।কয়েকমুঠো দেওয়াল তুলে রাখি
এসো।এসো ভার ০-তার খেলায় : খেলা হোক
লোভ আসুক।তাবুর পথ্য জুড়ে অভিযুক্ত মুখোশ
পতন চলছে।আপাত পতন।ঘনতরলে আপাত
লাজুক মেঘ ছুড়ি।তুমি ছুড়েছ সাপের খোলশ
রাস্তায় এলোমেলো দেওয়ালের ছাপ


৩

ঘিয়ে রঙের জানলা থেকে হাজারমতা চোখ
চোখ ঘিরে - নীলচে অরবিট্।অরবিটাল কোলাপ্সে
ডাস্টবিন।ডাস্ট।নীলচে চোখ।আনাচকানাচ 
প্রত্নতাত্ত্বিক তাপ-প্রবাহে নেগেটিভ ছু মন্তর
পেঁয়াজকলি ভিজতে থাকে জৈব ক্ষারে
তুমি বলছো : প্রেমনিষাদ ঝরছে গুড়োগুড়ো


৪

মোবাইলে (কখন) শুষছে ছাই ও ছাই
নিকোটিনের লালায় আমাদের নিত্য মেমব্রেন
এবং ছুঁইছুঁই পিথাগোরিয়াস স্বর্গ ও মন্থন
আবার ৫০০ বছর পর ভূ-ত্বাত্তিক ব্যভিচার
কুকুরের পেটে থাকা তরল পৃথিবী
দেখলাম।অথচ ১/২ তন্ত্রী প্রমাণিত


৫

গ্রাস করেছি কেতুগ্রহী বুদবুদ
হাওয়া শিখিয়েছিল - যা কিছু আছে কালগ্রাস
সময়টাই ইতিহাস : বাড়তে শেখে।চলতে শেখে
পায়ের পাতায় নামে সৌরতা আদিম
আদিম বমি উগরাচ্ছে মগজ।
মগজের হেলান বারান্দা।শুকোচ্ছে অচেনা ত্বক


৬

আনকাট্ শব্দগুলোর হাতছানি
এডিটোরিয়াল নোট - বাচছি আবগারি হিমে
হয়তো ভার বললে : অলীক ব্যস্ততা বোঝো
বেহিসাবি টিকটিকির ল্যাজ।আগামাথা টুংটাং
লাফিং বুদ্ধ হেসে ফেললে : বিপরীত বিপর্যয়
শরীর ঘষলে - ১ অজ্যামিতিক একান্তর কোন


শুভদীপ সেনশর্মা

 বৃষ্টি সিরিজ


১
যারা বৃষ্টিতে ভেসেছিল



যেদিন বৃষ্টি হবে বলে জানলাম -- সেদিন
আমি মেঘেদের সঙ্গে মেতেছিলাম রং খেলায়

যেদিন বৃষ্টির নৌকা ভেসে এল মনের
ভেতর -- সেদিন অঝোরে শিলা পড়েছিল অবেলায়

যেদিন বৃষ্টি হবে জানলাম -- সেদিন
সূর্যের ছূটি ছিল, আকাশ ছিল চাঁদের

যারা বৃষ্টিতে ভেসেছিল -- কেবল তারাই
ছাতা নিয়ে স্বর্গ ভ্রমণে এসেছিল

বৃষ্টিও এল ছাতা নিয়ে


২
যাদের জন্য বৃষ্টি এল



বৃষ্টি আসার খবর আমার মনে নেই
তবুও আমায় সে জানিয়েছিল

বৃষ্টি আমার পুরোনো বন্ধু
ও খুব লাজুকে -- আহ্লাদি অশ্রু

যে বৃষ্টিতে আমরা ভিজব বলে
বসে আছি -- এখন তাদের কান্না ভেজায় শরীর

যাদের জন্য বৃষ্ট এল -- তারা তো আনন্দিত মেঘেদের
প্রেমিক -- যারা বৃষ্টির পড়শি...

আরশিনগরের পড়শিরাও বৃষ্টিতে ভিজেছিল


৩
যে বৃষ্টি এসেছিল ঘরের ভিতর



যেদিন আমার মনের ভিতর দেশ উল্টেছিল
সেদিন তো বৃষ্টি পড়েনি...

যেদিন কাবেরী ফুলের ডালে গোলাপ হবে, শুনলাম
পৃথিবী থেকে উড়তে লেগেছে অজস্র গোলাপ

যেভাবে বৃষ্টির বন্ধু আমার কাছে এসেছিল
রাতের স্টেশনে ইয়ার্ডে কিন্তু সেদিন বসন্ত আসেনি

যে বৃষ্টি এসেছিল ঘরের ভিতর -- তাদের হাসি
চোখের জল হয়ে ঝরেছিল শরীরে শরীরে

আমার শরীর সেদিন বৃষ্টিতে ভিজেছিল


৪
যে বৃষ্টি আমার প্রেমিক



যেভাবে দেখা হল বৃষ্টির সাথে -- আমি তখন ছোট
প্রথম দেখায় মনে বৃষ্টি পড়েছিল অঝোরে

যেদিন বৃষ্টির জন্য আমার মনে রোদ উঠেছিল
সেদিন সন্ধ্যায় মেঘেদের নিমন্ত্রণ ছিল বাড়িতে

মেঘেদের কোলে হাসছে এক বৃষ্টি শিশু
আমার যাবার সময় হয়েছে এবার

যে বৃষ্টি আমার প্রেমিক -- ওর জন্য গোলাপ
নেবো বলে হাঁটছি মেঘপথে

যে বৃষ্টি মনে আছে সে আনন্দে ভাসে আকাশে


৫
যে বৃষ্টির কথা বলা হয়নি



বৃষ্টির অনেক কথাই মনে আছে
অনুশোচনার বাক্যে হাসছে বন্ধু বৃষ্টি

যাদের বৃষ্টির দরকার ছিল তাদের কথা
আমার বলা বারোন -- বৃষ্টি রেগে যাবে বলে

বৃষ্টির ঠাণ্ডা মনে গরম গরম কথা
ভাসছে কথার নৌকো -- আমার মনের ভিতর

যে বৃষ্টির কথা বলা হয়নি -- তাদের কথা
আর না বলাই ভালো, বিষণ্ণ পৃথিবীর বুকে

বৃষ্টির শব্দে আমার কথা ফোটে মুখে


৬
যেভাবে বৃষ্টি পড়েছিল



যেদিন মেঘেদের নিমন্ত্রণ ছিল বাড়িতে
সেদিন বৃষ্টি আসেনি

আমার মনে একটা আকাশ এসেছিল
বিনা নিমন্ত্রণে -- বৃষ্টি আসেনি


মনের বাইরে রোদ উঠেছিল
উঠেছিল চেতনার রামধনু

যেভাবে বৃষ্টি পড়েছিল মনে -- সেভাবে
পাথর পড়েনি আগে কোনোদিন

চাঁদের কলঙ্ক বৃষ্টি হয়ে পড়ুক আমি চাই


৭
যেটা বৃষ্টির দেশ



পৃথিবী যখন হালকা থাকে
বৃষ্টি পড়ে -- টাপুর টুপুর শব্দে জমে জল

আমার বন্ধু বৃষ্টি খেলে -- জলের ওপর মেঘের
ছায়া, পড়শিরা সব নৌকো ভাসায়

যাদের কথায় নৌকোর ওপর ভাসছে
সবুজ মেঘের দেশ

যেটা বৃষ্টির দেশ -- সেখানে
থাকে অনেক রোদ্দুর, যারা বৃষ্টি হতে চায়

বৃষ্টি কখনো রোদ্দুর হলে মেঘের হাসি পায়


৮
যে রাতে বৃষ্টি হয়েছিল



বৃষ্টির সাথে একদিন হঠাৎ দেখা
তার চোখে আমার ছায়া

বৃষ্টির টুকরো কথায় ভিজেছিলান আমি
আমার কথায় ভিজল ম্যালের রাস্তা

বৃষ্টি আমার অন্ধকারের বন্ধু
আমার অন্ধকারের নিঃসঙ্গতা

যে রাতে বৃষ্টি হয়েছিল -- শহরে
সে রাতে নক্ষত্র আসেনি, এসেছিল মেঘ

আমার নির্জন মনে এখন মেঘ বৃষ্টি রোদ্দুর