Friday, 26 February 2021

বাংলায় এই প্রথম অনুবাদ হওয়া লুইস গ্লিকের বই // Louise Glück Book First Ever Translated in Bengal And India Also

 

আমেরিকার সমসাময়িক শীর্ষস্থানীয় কবিদের মধ্যে লুইস গ্লিক  অন্যতম একজন ভাষ্য। তাঁর কবিতার ভেতর অলঙ্কারিত ধ্বনি তাঁকে আমেরিকার অন্যান্য কবিদের থেকে পৃথক ভাষা দিয়েছে। তাঁর সহজবোধ্য স্বর তাঁকে করে তুলেছে পাঠকপ্রিয়। তাঁর কবিতার মান নিয়ে সমালোচক ও পণ্ডিতদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও, নোবেল প্রাপ্তির আগে থেকেই তাঁকে সমসাময়িক আমেরিকান কবিতার প্রধান ভাষা হিসেবে মনে করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আমেরিকান কবিতার প্রায় সমস্ত পুরস্কার তাঁর ঝুলিতে অনায়াসে মাথা উঁচু করে প্রবেশ করেছে।

কবির জন্ম ১৯৪৩ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে। ১৯৬৮ সালে এসে তিনি তাঁর প্রথম বই Firstborn প্রকাশ করেন। ইতিমধ্যে তিনি লিখেছেন সর্বমোট ১২টি কবিতার বই ও কিছু প্রবন্ধের বই।

নোবেল কমিটি তাঁর কবিতাকে প্রশংসা করে বলেছেন তাঁর কবিতা স্বচ্ছ ও আপসহীন। এই কবি নিজেকে খুব একা রাখতে পছন্দ করেন। কবিতার ওপর একটি পুরস্কার প্রাপ্তির পর একটি নিউজপেপারে তিনি বলেছিলেন, সামাজিক জীবনের ছাপ আমার মধ্যে তেমন একটা নেই।

বইটি হওয়ার কথা আগেই বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছিলাম। এই এখন এসে মনে পড়ছে গত বছরে লুইস গ্লিকের মোট সাতটি বই থেকে কবিতা নির্বাচিত করে সেগুলি অনুবাদ করার দিনগুলি। আমার মনে হয়েছে এইসমস্ত কবিতাগুলি পড়লে তাঁর কবিতার গতিবিধি সমন্ধে একটি সম্যক ধারণা করা সম্ভব। 

যে সাতটি বই থেকে কিছু কিছু করে কবিতা নিয়ে বইটিতে অনুবাদ করার চেষ্টা করেছি সেই বইগুলি যথাক্রমে অ্যাভার্নো, আ ভিলেজ লাইফ, দ্য হাউস অভ মার্শল্যান্ড, দ্য ওয়াইল্ড আইরিস, মিডোল্যান্ড্‌স, আরারাত, দ্য ট্রায়াম্প অভ অ্যাকিলিস।

শীঘ্রই প্রকাশ পাবে। প্রকাশ পেলে কোথায় কীভাবে সংগ্রহ করবেন সে কথা জানাবো। এখন আপাতত প্রচ্ছদ নিয়ে এলাম। 

লুইস গ্লিক ( ২০২০ সাহিত্যে নোবেলপ্রাপ্ত কবি)
ভাষান্তরঃ সুজিত মান্না
প্রকাশকঃ শব্দযান 
প্রচ্ছদঃ প্রশান্ত সরকার
প্রকাশকালঃ ২০২০


ভারতের প্রথম কোনো ভাষায় অনুবাদ হওয়া লুইস গ্লিকের কবিতার বই।।
Louise Glück Book First Ever Translated in Bengal And India Also

Monday, 28 January 2019

১৬তম সংখ্যায় রইলো নয় জন কবির কবিতা

অন্তহীন ১৬তম সংখ্যার কবিতা















Sunday, 23 December 2018

এই মাসের কবিতা

অন্তহীন সংখ্যা - ১৫






Saturday, 17 November 2018

১৪তম সংখ্যায় প্রকাশিত স্বর্ণমুদ্রা

গৌরাঙ্গ মন্ডল

উজাড় 



কী তাণ্ডব দেখালে, তৃতীয়া
কী তাণ্ডব শুনিলাম

তুমিই সে গুরুপত্র
নিম্নে লিখিলাম

নাও বৃক্ষ, নাও টুপ্, অলভ্য সঞ্চয়
ভরে ওঠো হানিতে হানিতে

এ ভাণ্ড ফুটিয়া যাক গড়ন ঢালিতে

অন্যতমা



অন্যতমা, ধোঁয়ায় ভেতর, নুনের ভেতর একশো দুশো বছর চলা লবণজলে ধূলোবৃষ্টি ভিজিয়ে গেল বিকেল-প্রাতঃ নিরাসক্তির অনুষঙ্গে। এখন তো ভোর-স্নানের জন্য ডেটল, ওয়াশ কিছুই তেমন কেনা হয় না। কিন্তু, ঘুমে স্তব্ধ যখন তোমায় নিয়ে তোমায় দিয়ে তোমায় ছাড়া সমস্ত রাত এলবেলে ভুল স্বপ্ন বিছোয় গায়ের গন্ধে শূণ্যতারা। এখন না সেই এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে ভাবতে ভাবতে, ভাবতে মোটে ভাল্লাগে না। সেদিন ছুটি। ফাঁকাই ছিলাম। ঘুরতে যাওয়া বন্ধু বাড়ি টবের কাদা-সারের মাঝে, সত্যি বলছি-- দ্রবীভূত তোমার রেণু, পাপড়ি, কথা , দৃষ্টিকুচি কুড়িয়ে পেলাম। মূহুর্তে নীল আঁতের থেকে, ঘাতের থেকে জিভ অবধি রক্তবমন, সত্যি বলছি এক নিমেষে ঘেন্না ভাঁটায় গুটিয়ে নিলাম, ইচ্ছে মতোই কোনো তত্ত্বে জীবনধারণ সহজ হলেও জীবন ধরা বেশ অ্যাবসার্ড। সব মেয়েরাই প্রথম রাত্রি শোয়ার খাটে কাছিম হয়ে গুটিয়ে যায়..গুটিয়ে যায়.. লুটিয়ে যায়

বিশ্বজিৎ মাহাত



ভিক্ষুক 

শহরে আধুলি ওড়ে,
অসাড় দোকানি থেকে ভিখিরির ঝুলিতে নেমেছে

সে ঝুলিতে কত আলো,
আধুলি, গায়ক দল প্রতিপলে কোলাকুলি হয়

জ্বালামুখো, গান শোনে আদুল শরীরে
স্নেহ কাকে বলে বোঝে

এ স্নেহে মানুষ তুমি,
লাউ ডাঁটা হয়ে ঘরে ফিরো



সর্বনাশ 

সর্বনাশ বেহালা বাদক
অগণিত তার হাত। নিরঙ্কুশ সুরে সিক্ত
জন্ম নেয় সীমান্তের পাশে, দূর-ক্ষেতে, শহরেও

অসহায় ভেকধারী ভ্যাংচানো যুবক

কোনো মায়া পুষে পুষে
আমিও মুছব একদিন

নচেৎ পৃথিবী পালটাবে না

অয়ন মন্ডল


পাঁজরের ব্যথা


চারিদিকে মৃত্যু স্বপ্ন
টেলিফোন বুথে দাঁড়িয়ে অশরীরী আত্মা

ফিরে এসো ভালোবাসা
পুরানো অভিমান ব্যালকনি থেকে নামিয়ে দাও

কাপড়ের নীচে
ব্রা শুকানোর দিন শেষ
খুলে ফেল সমস্ত বিষাদ
কাছে এসো
সুগন্ধী চুল বিছিয়ে দাও

শেষবারে দেখে নাও
কপালের তিলক
কবিতার খাতা
মনখারাপের কাজল

ভালোবাসো!
চন্দন কাঠের অপেক্ষা...

এসো! চুমু অপশন জামার বুক পকেটে
তোমার স্তন থেকে একফোঁটা দুধ বাঁচিয়ে রাখো

খিদে খিদে অভাবের সংসারে


চোখের আড়ালে



বরং আমাকে ভুলে যাওয়ার আগে
জামার হাতা গুটিয়ে নাও
গায়ে ছিটিয়ে নাও সুগন্ধী আতর
রবিবারের মৃত সবজি
প্র্যাকটিক্যাল খাতা
গাঢ় নীল রঙের লিপস্টিক
অবসাদের আকাশ চুঁইয়ে চুঁইয়ে এগোচ্ছে
কবিতার বাঁকে বাঁকে...

যে মানুষ ভালোবাসতে জানে না
তার একলা থাকার ঘরে টিকটিকির সঙ্গম দৃশ্যও বেমানান
তুমি চাইলেই শীতের বিছানার নীচে লুকিয়ে পড়তে পারো
টুকরো টুকরো করে দিতে পারো মোমের আলো

গ্রিলের ফাঁকে জমে থাকা আকাশ প্রদীপ নিভে গেলে
চোখের পলক সরিও না!

আফজল আলি

কলকাতার ঘুলঘুলি


যা হতে পারত বা যা হয়নি এ সব নিয়ে
উৎকণ্ঠার উপকূলে আলমারি খুলে লাভ নেই
চলো মালকিন , টেলিভিসন  দেখতে দেখতে কলকাতার ঘুলঘুলি ঘুরে আসি

গভীর উদ্বেগ সিমকার্ড চুরি করেছে
সেই ভদ্রলোকের গায়ে হলুদ  পাঞ্জাবি
যার পাযে হাওয়াই চপ্পল ছিল পরবর্তী  অর্ধেক জীবন
কোনো না কোনো বিবেচনার কাছে হেরে গিয়ে ঝিমঝিম করছে মাথা

ফাল্গুন মাস এসো , ঘুরে আসি কিছুটা অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে
লড়াইটা ঠিক সামনাসামনি বা সামনে পিছনে নয়
একটি ক্লান্ত জীবনের ব্যাকরণ ওষুধ  ভেবে খেয়েছিল
তখন বেহেস্তের খাঁচা আরো আড়ষ্ট হতে হতে
জীবন দেখছিল আমাদের আঙুলের  পরিমাপ

ভেবে দেখো ভাইসব , এই দহন থেকে মুক্তি পেতে ঠিক কতদূর যাওয়া  দরকার
যাতে নাম  উজ্জ্বল আকারে থাকবে

ভাষার অতীত থেকে

   

অন্ধকার প্রতিস্থাপিত  হতে চাইছে
কোথাও  আর একটু ভালোবাসার  কথা
আর একটু ধৈর্যের উত্তরণ
চেনা পাখির গায়ের রঙ , কখনো হলুদ হয়ে যায়
কখনো ভরসা খুঁজতে আসা অচেনা ঠোঁট

কবিতার সে সব শব্দ অনর্থক নয়
যাবতীয় লজিক ভেঙে বিড়াল দৌড়াচ্ছে
অন্তরঙ্গ যা ছিল তাদের শক্তি উধাত্ত  আজ

ভাষার অতীত থেকে প্রতিদিন-ই ভাবি ভুলে যাব
কথার উসকানিতে ধোঁয়া উঠছে মনে
সামান্য শব্দের নেশা
  অসম্ভব জেনেই কাটালাম
যতটা যন্ত্রণা ব্যবহার করেছি , ছাঁকনি হিসেবে তা গ্রহণযোগ্য কিনা

Friday, 16 November 2018

কুমারেশ তেওয়ারী



পাঠ-প্রতিক্রিয়া 


পাঠ-প্রতিক্রিয়া নিতে প্রস্তুত ছিল যে কবিতাটি
তার শরীরী গঠন ছিল নান্দনিক
ক্ষীণ তটি পীণ পয়োধরা
তবে কোনো সাপগন্ধি বাঁক ছিলোনা সেখানে

পাঠকের জন্য ছেড়ে রাখা স্পেসে যে রহস্য ছিল
খুব স্বাভাবিক, যার থাকার মধ্যেই কবিতার উত্তরণ
যে কোনো পাঠক পড়তে শুরু করলে তাকে
অসম্ভব মগ্ন এসে করে দেবেই তাকে স্থিতধী সাধক

কবিতাটির ভেতরে এক আগুনও ছিল
তবে তার রূপ দাউদাউ নয়
নম্র এবং শান্ত স্বভাবে এক গা সওয়া আঁচ
বের হয়ে আসছিল তার নাভিকুণ্ড থেকে
সেই আঁচ ছড়াতে ছড়াতে কবিতাটি স্বাভাবিক নিয়মেই
প্রস্তুত করেছিল নিজেকে, পাঠ প্রতিক্রিয়া নিতে

কথকতা


কথকতা থেকে নীরবে শোষণ করি যাপনের আলো
গেরস্ত প্রদীপ জ্বেলে পার হই উৎপাদনের মাঠ
দেখি, শস্যকণা মুখে মেঠো ইঁদুরেরা
প্যারেডে নেমেছে এক আলোকিত মাঠে
তাদের চলার পথে শব্দ নেই কোনো পতনের
র‍্যাম্পের জটিল কিছু শর্তাবলী নেই

মাথায় মুকুট পরে চাঁদ দেখতে দেখতে
যে মেয়ে পাগল হয়ে যায়
যে ছেলেটি বাৎসায়ন কোলে
বেঁধে ফেলতে চায় চাঁদের কুসুম
তারা কি দেখেনি কেউ ফসলের মাঠ?
স্বপ্নে দেখে শুধু নীল হরিণ-হরিণী চেটে খায়
                                               রাতের পতন?
যাদের অলীক ডানা মেখে রাখে পরাবাস্তবতা

এসবই আসলে এক জটিল অসুখ
সোহাগকুসুম ছেড়ে আম্রপালি ভ্রম

যেখানে অলাতচক্র ঘোরে বনবন সেখানেই
বিপুলের ঘাড়ে পা রেখে ক্রমশ উঠে যায়
স্বপময় এক স্পাইরাল আর নষ্ট মিথকথা

Thursday, 7 June 2018

সুজিত মান্না

গুঞ্জন

১।

অনায়াসে কাছের বাগানফুল মুখ নামিয়ে নিচ্ছে । গাছেরা নামিয়ে রাখছে ডানা । দেখতে দেখতে বাগানমাটির একদম কাছে পৌঁছে যাই । বাগানে কি কোনোদিন আয়না পাওয়া যায় ! কিন্তু প্রতিবারই যখন মাটি ছুঁই , চোখের মধ্যে হাজারো ধুলো ঢুকে যায় ।

ঘরের মধ্যে আসি । জামারা হাত নামিয়ে রাখে । সমস্ত দেওয়াল মুখ সরিয়ে নেয় । ঠিক উল্টোদিকে ঘুরে যেন আমায় বিদায় জানাবে । আমি হয়তো এতটাই অপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছি !

আমি তারপর আর মানুষমুখো হইনি । মানুষের মুখ ফিরিয়ে রাখা আমার কাছে ঝরে যাওয়া গাছের জীবনপ্রীতির মতো । আমিও দিনদিন কেমন ঝরে যাচ্ছি । এই হাঁটাপথে কোনো সূর্যজোনাক নেই । এই রাস্তা শুধু মুখ ঘুরিয়ে আমায় চোখ বুজিয়ে নিতে বলে । নীরবতা তাহলে কি এতটাই আমার প্রয়োজন হয়ে পড়লো !

২।

কোনোদিনই বৃষ্টি একা আসে না । আমাদের খেয়াল করতে হয় কোথায় না জানি কীভাবে রোজ ঘটে চলেছে হাজারো ঘরে ফেরা । তুলে রাখি সমস্ত সুখের পায়রাদানা । কাকতলীয় মুহূর্তদের ঘাঁটতে ঘাঁটতে পৌঁছে যায় আমার শেষপ্রান্তে । হয়তো এভাবেই আমিও শুধু নীরবে শ্বাস নেওয়ার জন্য একাধিক শব্দ করে যাবো ।
     
                  আমার ডুবে যাওয়া হয়তো একটা ধর্ম লেখা আছে । প্রতিবার ডুবে যাই আর বালি খুঁজে খুঁজে তুলে আনি জীবনপাথর ।

অন্যমনস্ক রাত বলে কিছু নেই । যেগুলো আমায় দেখে রোজ লোকে চোখ বন্ধ করে , সবই মর্মান্তিক কোনো এক বজ্রপাতের নৈঃশব্দ্য পালন । খুঁজে চলি হাত , ঠিক যেভাবে শেষমুখ একটু জল চেয়ে খায় ।

৩।

ভিজতে থাকা মনের গভীর দিয়ে যে রাস্তা চলে গেছে তার প্রান্তে দাঁড়িয়ে একদিন জোর করে চিৎকার করেছিলাম ― কেন এত চলাফেরা , কেনই বা এত নিজেকে খাদমুখী করে তোলা । কেউ উত্তর দেওয়ার মতো ছিল না । কেবল হেঁটে যাওয়াই যে মানুষের ধর্ম হওয়া উচিত , খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আবিষ্কার করেছিলাম ।
 
                      এক শিশুমুখ রাস্তা পেরিয়ে বসে যায় ফুটপাথ জুড়ে , আমি কান বন্ধ করে হাঁটার চেষ্টা করি । এই দুনিয়ায় শুধুমাত্র শুনে শুনে কোনো পাহাড়জয় হয় না ।

হাঁটতে হাঁটতে সেদিন এতটাই এগিয়ে গেছিলাম , লাল হলুদ সবুজ রঙ মিশে গিয়ে যেন আমায় আহবান করতে থাকে । আমি হাত বাড়িয়ে দিই , ক্রমশ সেই মুখ আমায় ভেতরে টেনে নেয় । তারপর আর ফেরা হয়নি বহুকাল ।

Wednesday, 18 October 2017

সম্পাদকীয়

অন্তহীন -১৩


"...
 তোমার তরবারি যদি বিদ্ধ করে আমার শরীর ও মন
কী আসে যায় ! আমার তো রয়েছে কবিতা অমর
                         কবিতা ছুরির চেয়ে বেশি শক্তিমান ।
আমার দুঃখে যদি সমুদ্র শুকোয়―আকাশ নড়ে
                                    কী আসে যায় ―
দুঃখের পাখায় ভেসে কবিতার মধুর উড়ান হবে ঠিক..."

                   ― (কবি -হোসে মার্তি , অনুবাদ - সন্দীপ সেনগুপ্ত )


এটাই যে পৃথিবীতে যা কিছুই ঘটে যাক যদি হাজারো আঘাত আমাদের শরীরকে ভয়ংকর থেকে আরো ভয়ংকর হতে শেখায় তবুও আমাদের সবচেয়ে বড় সম্বল আমাদের সম্পদ এই কবিতায়..। হাজার দুঃখ কষ্ট জীবনের উঁচু নিচু যাবতীয় পর্যায় পেরিয়ে আমরা কবিতার কাছে অন্য এক ব্যাক্তি হয়ে উঠি..। আমরা চাই নিজেদের সমস্ত ফেলে আসা খারাপ ভালোকে ভুলে গিয়ে বাকি জীবনের জ্বালানি খুঁজে নিতে..। আমরা পারি..। সত্যিই পারি..। আমরা যেই সময়ে দাঁড়িয়ে আছি প্রতি নিয়ত কিছু না কিছু অঘটন আমাদের নাড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে..। আজ এখানে তো কাল অন্য পাড়ায় , অন্য কোনো প্রদেশে..। তার মাঝেই আমরা ক্রমে নিজেদের শিল্প চর্চাকে আরো এগিয়ে নিয়ে চলেছি..। একটু অগোছালো ভাবেই শুরু করলাম এবারের সম্পাদকীয়..। আসলে কী লিখবো আর কেন লিখবো এটাই বুঝে উঠতে পারছি না..। হ্যাঁ এটাই বলতে চাই যে বা যারা ঠিক এই কারণ টা কখনো ভাবেননি যে কী লিখবো ,অথচ লিখেই চলেছেন আমি অন্তত তাদের কুয়াশায় হারিয়ে ফেলার ভয় পাই..। সত্যিই ভয় হয়..। শারদীয়ার পর পর বের হবে বলেও অন্তহীন বের করতে পারলাম না...। কিছুটা খারাপ লাগা থেকেই যায়..। আজ বসে যখন দেখছি এত ভালো ভালো লেখা আমি প্রকাশ করতে পারছি, সত্যিই খুব গর্বিত মনে হচ্ছে..। এত ভালো লেখাকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য..।
       কিছুদিন আগেই অন্তহীন অক্টোবর সংখ্যা প্রকাশের জন্য কোনো বিজ্ঞপ্তি না করায় তেমন কোনো লেখাই দপ্তরে জমা পড়েনি..। কিছুটা খারাপ লাগা থেকেই কী করবো ভেবে পাইনি..। তাই হঠাৎ সিদ্ধান্ত দীপাবলিতে বিশেষ সংখ্যার প্রকাশ..। এবার সত্যিই খুব ভালো লাগছে এত এত লেখা পেয়েছি যে সম্পাদকীয় বেশি লিখে কাকেও এখানে বেশিক্ষন ধীরে ধরে রাখবো না..। একটাই চাওয়া সবাই সবার লেখা পড়বেন...। আসা করি পড়বেন..। সবাই খুব ভালো থাকুন...। এবং এই কালীপূজো খুব আনন্দ করুন...। ।



বিশেষ কৃতজ্ঞতা স্বীকার - ফারজানা মণি ( অলংকরণ )

সহসম্পাদকীয়



প্রতিবারই যখন সহসম্পাদকীয় লিখতে বসি, ভাবি কী লিখবো। কলম হাতে করতেই মনে পড়ে গেল দার্জিলিং-এ নিহত এস. আই অমিতাভ মালিকের কথা। কীভাবে চলে গেল এক তরতাজা প্রাণ, ডিউটি করতে করতে তিনি প্রাণ দিয়ে দিলেন আমাদের জন্য,এই দেশের জন্য। বিনিময়ে আমরা তাকে কী দিলাম? বরং কেড়ে নিলাম...জানি না এভাবে আর কতদিন চলবে। কবিতার ভাষাই বা কী হবে। নাকি কবিতাও গর্জে উঠবে ঠিক একজন সৎ কর্তব্যপরায়ণ অফিসারের মতো। একজন কবিতে প্রথমে তার কবিতার প্রতি যতটা সৎ থাকা উচিত আমরা কী তা পারছি ?সমস্ত টানা পোড়েনের মাঝে আমরা জীবনকে এগিয়ে নিয়ে চলেছি আর জীবনের গতিকে বহাল রাখতে কবিতার মতোই স্বচ্ছ ও সুন্দর রাখার চেষ্টা করছি নিজেদেরকে। তাই তো এই কবিতা যাপন,কবিতা তো জীবনব্যাপি।প্রতিবারের মতো এবারও কবিতার ডালি নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হবো, আমাদের এই ছোট্ট প্রচেষ্টায় আপনারাও যে সামিল হয়েছেন এটাই আমাদের পরম পাওয়া। যাই হোক কবিদের হৃদয় নিঃসৃত কবিতা নিয়েই আমাদের এই পথ চলা। দীপাবলির আনন্দে কবিতাকে মিশিয়ে আলোকিত করে তুলুন সমস্ত রকম খরা, দুঃখ,দুর্দশাকে। সকলেই ভালো থাকবেন,সৃজনে থাকবেন এবং সেই সাথে সাথে শুভ দীপাবলির বর্ণময় শুভেচ্ছা গ্রহণ করবেন----

রুমা ঢ্যাং

জোনাকিপোকা সম্বল ঘর 



খোলা পিঠে ধরে রাখছি পাখি ডানার হলুদ দাগ
 পুরনো ছায়ার ঘুম, অথচ 
ভাতের থেকে বেশি উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ছে রাতকামিনী
সেইটুকুই রাত ঘেঁটে লালনপালন শিখি 

গ্যালারির চৌকাঠ থেকে উত্থানপতনের পাঠ পড়ে
         তুমি যে নরম সূর্যের কথা বলো 
ভোরের বিন্দুর আড়ালে  
       পৃথিবীতে হেরফের হয়ে যায় সময়
সম্পর্কের খাতিরে, ছুঁচ থেকে ভয় ফোটে
       গোলার্ধের বিপরীতে ছড়িয়ে পড়ে কলাযাপন

কে তার পথে দেখেছে কুরুক্ষেত্র। আমাদের জোনাকিপোকা সম্বল ঘর
সার্চলাইটের প্রয়োজন যত কমেছে 
                    বিস্ময় বসেছে শৃঙ্গারভূষণে
মহিষের দুধে সবে ফূর্তিস্নান করিয়েছি
আমার কাছে
   এত এত খিদে স্নাতকোত্তর পায় না... 

জ‍্যোতির্ময় মুখার্জি

অভ‍্যস্থ যাযাবর


জোরালো কিছু নারীর ঠোঁটে লেগে থাকে আরবীয় উদাসীনতা

ক্রমে ধ্বংসের দিকে
সংস্কারে বর্বর দাবানল
সৌভাগ্যক্রমে অস্থায়ী ঠিকানায় স্থাপিত হলো রমণীয় সাম্রাজ্য

সব শব্দই ওয়ানস্ আপন্ আ টাইম্
সব শব্দই একান্নবর্তীতার বৃত্ত ছিঁড়ে গুঁড়ো গুঁড়ো ঐকতানে শক্তি বৃদ্ধি করে

ঐক্য
স্রোতের ভিতর
তান
চোখ বেঁধে বহু দূরবর্তী হাড়ি ভাঙে

অতঃপর, স্মার্ট নাগরিক ধুলোর নিচে চাপা পড়ে থাকে অভ‍্যস্ত যাযাবর।





দাহ্য ধুলো


সুতরাং, প্রেম একটি ত্রিমাত্রিক দৃষ্টিকোণ ছাড়া কিছুই নয়

কিছু হিসেবী দিন আর
বেহিসেবি রাতের মধ‍্যবর্তীতে এক মহাকাশ শূন‍্যতা আসে যখন 
তা আসলে আসন পাততেই চায়

অতঃপর এক যাযাবর জোৎস্না
বিপর্যয়ে তার অবাধ আনাগোন

হাত বাড়িয়ে নিলাম
যদি এলোচুল নামিয়ে রাখো
পরম বিশ্বাসে
হয়তো থমকে যাবে
আঙুলের ফাঁকে জড়িয়ে
শাড়ির অবশিষ্ট খুঁট

এই হস্তশিল্পের সপক্ষে যুক্তি এমনই নিটোল যাতে সমৃদ্ধ হয়
কিছু আটপৌরে বিশেষণ 

তখন বেসরম্
তুমি শাড়ি খুললে
আমি ডুবিয়ে নিলাম
মেপে নিয়ে কিছু দাহ্য ধুলো

প্রদীপ কুমার ঘোষ


অতৃপ্ত আত্মা

সারারাত ঘরের ভিতর ধূপ জ্বালিয়ে পুড়েছি।
একতলা থেকে দোতলা অব্দি বাতাস ঝুঁকে আছে
                                 অধঃক্ষিপ্ত আত্মার কার্বনে।
দরজা এবং জানালার পাল্লাগুলো
চোয়াল শক্ত করে এঁটে আছে।
একটা ঘূর্ণির মতো পাক খেতে খেতে
ছটফট করছে অব্যক্ত আর্তনাদ : যেন পিপাসা।
যেন কতদিন সে মেঘ পুড়িয়েছে বৃষ্টির আশায়।
যেন আজও সে বালি পেয়েছে নিজেকে ছুঁয়ে।
কোনোদিন ঘর বোনেনি লোকটি
কোনোদিন শোনেনি বাবুই পাখির গান।
খিদেই তো এই। এইরকম একটা পা-আটকানো ফাটল।
আড়ষ্ট অন্ধকারে যখন লোকটি বেঁচে থাকার শেষ পিনটি খোঁজে
তখনই হয়তো তার কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতা হয়ে যায়।
 স্বরূপ

অবতারবাদী দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখলে
বোঝা যায় কার কব্জিতে কত ক্যারিশমা
নক্ষত্রের আলোয় গামছা চুবিয়ে
অনায়াসে একটা জ্যোৎস্না নির্মাণ করে
ম্লান করা যায় চাঁদের ঐশ্বর্য
গোপনে দু-চারটে আত্মতৃপ্তির ঢেকুরও তুলে
আবার মিহিন ধুলোয় মিশে যাওয়া যায়
কারণ আমরা কারোর না
আমরা নক্ষত্রের না
আমরা চাঁদের না
আমরা শুধু একটা ক্ষমতার অলিন্দে
কপাটিকার মতো খুলে যাই আর বন্ধ হই।
 আদ্যাশক্তি

অ্যালফাবেটগুলো একে একে নিদ্রা গেলে
পকেটে খুচরোর পরিমাণটা গুনে রেখে
আমি আগামীকালের বাজেটে একটা সূক্ষ্ম গোঁতানি মারি।
সামনে আঙুরের মত টসটসে ফলের পসরা সাজিয়ে
একটুকরো ডাগর শরীরের একটা মেদবহুল আর্দ্রতা
আমার শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথেই ওঠাপড়া করছে।
অন্ধকারে সন্ন্যাসী সাজতে গিয়ে আমার কাপড় খুলে যায়।
মাখোমাখো হয়ে দুধ আর কলা একটা সুন্দর সকাল দেয়।
আর সেইরকম একটি আলোর জন্যই ভিখিরি হয়
আদিদেব ও একজন আদিদেবী।

রাহুল গাঙ্গুলী



ম্যাগমা ও ০-প্রভাব



১) প্রকল্পিত __________
নীলাম্বরী শাড়ি।অদ্ভুত লাগছে।তুমি = ঘোর
অজানা সাম্পানে অচেনা পরিচয়
আকাশী ফল : উপহার।কালো কফির কাপ
ধূমায়িত এলোচুল : ঠোঁটে নামা রাত্রিকালীন ছাই


২) অপরিচিতা নাভিতরল ________
বড়ো বেশী নিশ্চুপ।পাশাপাশি এটাই
বেলুনওয়ালার দাবি অনুযায়ী : গোপন পালক
প্রেতযোনি খুজি।ওড়াই।মাখি।যাযাবর থান্
উলঙ্গ স্তনে : নদী খুড়ে বলছো নিষেক


৩) ভাঙা ণৌকার শ-পাটাতন ________
চিবুকে জড়াচ্ছ নিস্তব্ধতা।ফুলদানী 
কাচের ভিতরে বারুদ : কামড়ায়
সজোরে দরজা খুলি = অনবরত
দাবিহীন বিস্ফোরক : তুমিও ভালোবেসেছো ঝিনুক


৪) প্রতিবর্ত দাফন ________
আবরণে পিতল গলিয়েছি।দাও নাভিশ্বাস
দিকচক্র পোষ মানে না : সমাপ্তিকা মেঝে
অমসৃণে বেয়ে আনা হরফ = নিশানায় চাঁদপাহাড়
অশ্লীল সাপ : ১ম সর্বনাশের শরীর


৫) চুম্বকীয় মরিশাস _________
মরিয়ম্ হতেহতে মোমমেঘ।আকারহীন বৃষ্টি জমে
অ্যাসিডের শুকনো ক্ষয় (দোপাটি চোখ)
রোজআঙুলে মুঠোফোন দেওয়াল = পিয়ানো টুং
আস্পর্ধা : ছুয়ে ফেলি গোপন মরচেপড়া বালি


৬) প্যারাসেন্ট্রিক উড়োজাহাজ ______
ভয় (স্রেফ ভয়)।ভাসমান আপেক্ষিকতা
উফঃ।চূড়ান্ত জীবাশ্মচুরের খনিজ
লোভ ≠ কাম ≠ বিছানা ≠ খেয়াল ≠ আদর
লো কা বি - খে য়া = লুকানো খেয়াপার ≠

দেবার্ঘ সেন

সমকম্পিত


দু 'জনের সামনে মুশলধারায় বৃষ্টি হচ্ছে।
পেছনের সমস্ত পথ বন্ধ।
বৃষ্টিতে ভিজলে প্রত্যাখান করতে পারে দুটি পরিবার।

দশবছর তারা এভাবেই দাঁড়িয়ে আছে ।
সব কটা নৌকো কাটা গেছে অশান্ত ভুল চালে।
জলের বিশ্লেষন রিপোর্ট খুইয়ে গেছে স্রোতে।

বৃষ্টিও থেমে গেছে অপরিসীম ক্লান্তিতে।
দুটো পরিবার শব্দচ্ছকের পেছন পাতায় সেরা পাত্রের খোঁজে।

দুজনে এখন বুঝতে শিখছে বৃষ্টি থেমে গেলেও সবসময় যে
অাকাশ পরিস্কার হবেই , এমন কোনও কথা নেই । 


তুর্কি


শাঁখ , তুমি চুম্বন নিয়ে যেও
যত চুম্বন লাগে আওয়াজ তুলতে গেলে।
দূরবীন, তোমায় শিলাজিৎ দেবো
আহত প্রেমিক ঘরে ফিরে এলে।

মোমবাতি তুমি আগুন চেওয়া না আর
মিছিলে শুধুই জ্বলেছো অর্থহীন।
বদলে আসেনি কোনওই প্রতিকার
বেড়েছে উল্টে আজাদ ঘাতক হিন্দ।

প্রুসিয়ান আর ক্রিমসনের অনু-সঙ্গমে
কালো, তোমার পাওনা গিয়েছে বেড়ে,
যতটুকু থাকে প্রাপ্ত অধিকার;
শিখিয়ে দিও কিভাবে তা, নিয়ে নিতে হয় কেড়ে। 

শ্রদ্ধা চক্রবর্ত্তী

জীবন


এ যেন এক বন্দি জীবন,
ঘুমের আগে পোড়া রুটির স্বপ্ন
আমাকে মাখন চাঁদের লোভ
                       দেখায়---

যাকে ভালোবাসি সে আমার জন্য পাগল...

অথচ, আমার হলুদ শাড়িতে প্রজাপতির
     শাবক সংসার করছে---

সত্যিই কী তুমি আমার!

নাকি, দিনকে দিন নীল হতে হতে
ঝরে পড়বো অপরাজিতার মতন!

সৌম্যদীপ দাস



অনৈতিক স্বপ্ন-১



আমি বিষাক্ত পুরুষ হয়ে উঠবো
এমনটা কথা ছিলনা।
অনৈতিক স্বপ্নের কোলে মাথা রেখে
ঘুমন্ত সন্ধ্যের ঠোঁটে বিলিতি কারুকাজ।
এসবে আমার ঘুম আসেনা।
কখনো সময় আমায় ছুটি দিয়েছে
আবার কখনো আমি সময়কে।
আজকাল অসময়ের পাশে দাঁড়াতেও
আমার  হাঁটু কাঁপে।
মনে হয় তাদের হাতেও
কয়েকটা জ্যোস্না
নিরালায় আকাশ মেরামত করে।
বিকেল হলেই সন্দেহ হয় বুকের অসহ্য ব্যথাকেও
সেখানেই একদিন তোমার ঘর ছিল।
এখন সেসব অতীত।
মাঝরাতে পাঞ্জাবির বুকে একটা পকেট এঁটে রাখি
ঠিক তোমার মতো করে  আত্মবিশ্বাস পুরে রাখবো বলে।।

একরাম আজাদ

আলৌকিক অশ্ব 

অগ্রজ কবিগণ হঠাৎ অশ্ব নিয়ে মেতে উঠলেই আমার মনে পড়লো মা শৈশবে খুব ঘোড়ার গল্প শোনাতেন: কালো লাল শ্বেত ঘোড়ার গল্প। প্রায়ই তন্ময় হয়ে আমি শাদা ঘোড়ার পিটে অলৌকিক বিশ্বের দিকে রওনা হতাম। আপ্লুত হয়ে, ভয়ার্ত হয়ে, বিষণ্ণ হয়ে  নানান রঙের ঘোড়ার দেশে ঘুমিয়ে পরতাম রোজ।

যৌবনের দিকে এগিয়ে যেতেই আমার ঘোড়ার আকৃতি বদলে গেলো।  এখনো আমি ঘোড়া খুব পছন্দ করি: উজ্জ্বল সোনালী ঘোড়া। তীব্র যৌবনময়ী কোনো অশ্ব, যার চারটি খুঁরের পরিবর্তে থাকবে তুলতুলে বিশটি আঙুল আর মাংশল দুটি মাত্র পা এবং তার আরোহী হয়েই অলৌকিক স্বর্গের উদ্যানে পৌঁছে যাবো আমি।

এখন অশ্ব মানে বুঝি মৈথুনমত্ত কোনো সোনালী চুলের নারী, যে ঘোড়ার ভঙ্গিতে আসন নিতে জানে।